বাবা’র স্নেহ-ভালোবাসাময় সুরক্ষা একটি অদ্ভূত সৌন্দর্যের প্রতীক

যেহেতু অনেকদিন ধরে উত্তরা থেকে ক্লাস করছি, তো মোটামুটি নিয়মিতই বুয়েট বাস এ আসা-যাওয়া করি।

আমি সাধারণত জানালা’র পাশে বসি বা বলা যায় সবসময় যেভাবেই জানালা’র পাশে বসার একটি প্রবণতা আছে। ছোটবেলা থেকেই, এ নিয়ে অনেক ঝগড়াও হত ভাই-বোন দের সাথে, যখন চিটাগং থেকে বেড়িয়ে আমরা পুরো পরিবার ট্রেনে চাঁদপুর(জন্মস্থান) আসতাম। বাস-ট্রেন যেটাই হোক না কেন, আমার জানালার পাশে বসা চাই-ই চাই। এমনকি জানালার পাশে বসার জন্য আমি বুয়েট বাস-এ হাউজ বিল্ডিং থেকে না উঠে অনেকসময় এর পিছনের স্টপেজ(আব্দুল্লাহপুর) -এ গিয়ে বাস-এ উঠি, যাতে জানালা’র পাশের সিট টি পাওয়া যায়। জানালা’র পাশে বসার অনেক তাতপর্য আছে, তা নিয়ে অন্য একদিন লিখব। যাইহোক,

তো প্রতিদিন সকালে বুয়েট বাস যখন ফার্মগেট আসে, তখন দেখি আমাদের এক জুনিওর কে নিয়ে তার বাবা দাঁড়িয়ে আছে, আংকেল তাকে উঠিয়ে দিতে আসে। বাস যতক্ষন না আসে ততক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে, তা-ই মনেহয় আমার। ব্যাপারটি আমি খুব উপভোগ করি, বাবার বাবা-সুলভ ভালোবাসা নিয়ে, সন্তানের সুরক্ষার জন্য ভার্সিটির ২য় বর্ষে পড়ুয়া একটি মেয়ে কে সাথে নিয়ে তার বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা। এটা দেখতেই আমার ছোটবেলার চিত্রটি ভেসে উঠে, যেন ৫-৬ বছরের বাচ্চা শিশু কে নিয়ে বাবা তার স্কুল বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছে।

আজকাল হয়ত, পরিবেশ-পরিস্থিতি অতটা ভালো না, নিরাপত্তার স্বার্থে অনেকের অভিভাবকদের এরকম সাথে থাকতে হয় এবং এই ক্ষেত্রেও এটা হতে পারে। কিন্তু আমার মনে বিশেষ করে ঐ বাবা’র স্নেহময় স্বহজাত সুরক্ষী’র ভূমিকাতে দেখার বিষয়টি উঠে আসে, মানে আমি এই চিত্রটি প্রতি দিন দেখা মাত্র এই অনুভুতিটি আমার মধ্যে কাজ করে।  বেশ উপভোগ করি ঐ দৃষ্টিকোন থেকে। মানে কিছু চিত্র আছে না, যেগুলো দেখলে মন ভালো হয়ে যঃড, এরকম একটি চিত্র আমার কাছে 😀

পৃথিবীর সব বাবারা তাদের সন্তানদের জন্য এমন আশ্রয়ী হোক এবং পৃথিবীর সকল সন্তান তাদের বাবা(-মা) কে এই ভালবাসা-মমতা-স্নেহ এর কিছু হলেও ফেরত দিক বা দিতে সচেষ্ট হোক।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *