যেকারনে…

 

কাছের মানুষদের অনেকেই জানে না যে, আমি ফেইসবুক ছেড়েছি। অনেকদিন ধরেই নেই, প্রায় ৩মাস।  Contrary to popular belief, the sky is not falling. 😀

কেন করেছি? উত্তরটি সব শেষে দিয়েছি। এছাড়াও ফেইসবুকের কিছু ব্যাপার আমাকে খুব বিরক্ত করে, যেগুলো এই সিদ্ধান্তের পিছনে ছোট-বড় ভূমিকা রেখেছে। যেমন ,

  • এখানে যে সে কথা বলে, যা-তা বলে, যার যে বিষয়ে জ্ঞান নেই সেও ঐ বিষয়ে কথা বলে। এবং এত কনফিডেন্টলি বলে যে, যে জানে সেও কনফিউজড হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।  সবাই সব বিষয় নিয়ে কথা বলে, এটাই আমার পছন্দ না।
  • Implication চিন্তা না করে অনেক Sensitive সামাজিক ও ধর্মিয় ইস্যু নিয়ে যে সে মন্তব্য করে।
  • ওহ, ২-৪টা বই পড়ে একেকজন নেমে যায় সংশ্লিষ্ট ইস্যুর ব্যাখ্যা দিতে, যা বহু শতাব্দী ধরে জ্ঞানি-প্রজ্ঞাবান সাধকরা নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারেনি বা বলেনি।
  • জ্ঞান আর প্রজ্ঞা যে এক না, এটা কে কাকে বুঝাবে। জ্ঞানের উপর ভিত্তি করেই আমরা বেশী চলছি, অন্যদিকে “প্রজ্ঞা” বলে যে একটি জিনিস আছে, ঐটাতো অনেকেই জানে না, ঐটার তাৎপর্য বুঝা তো দূরের কথা।
  • চিন্তা করে কথা বলে এমন মানুষ পাওয়া খুব কঠিন। অন্যদিকে ফেইসবুক চিন্তা করার মানসিকতা নষ্ট করে, আমাদের attention span ও অনেকে কমিয়ে এনেছে।
  • Aggressive Information Flow, এটা আমার কাছে খুব ক্ষতিকর মনেহয়।
  • Depth দেখি না, সবকিছু কেমন যেন Shallow মনে হয়।
  • Empathy অনুপস্থিত, সহনশীলতা বাষ্প হয়ে যাচ্ছে মনেহয় সব।
  • হুজুগে চলা, স্বকিয়তা খুব কম। আর আমরা যে জানি না, এটাই আমরা জানি না। যা করছি তা কেন করছি…… কে যে আমাদের চাল্লাচ্ছে আল্লাহ জানে।
  • কাউকে খাটো করা, পচানো কিংবা অপমান করা টি প্রায়ই আমরা একটি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাই।
  • আমাদের সামাজিক জীবনের জন্য ক্ষতকর এমন অনেক কিছুর অবাধ বিচরন এবং তার প্রতি মানুষের অবচেতন-অচেতন বাহ্‌বা খুব হতাশ করে। I am not talking about what only meets the eyes. এত এত পণ্ডিত এখানে, এমন সব ইস্যু নিয়ে পাব্লিকলি কথা বলে যে, “হা” হয়ে যাই। মানে এরা আবার এটাকে আধুনিকতা মনে করে, উদারতা মনে করে, প্রগতি মনেকরে। এরা কি সমাজের দিকে তাকায় না? এরা গ্লোবাল কমপ্লেক্স সিস্টেম টির দিকে একটু তাকায় না? এত পণ্ডিতি মার্কা স্ট্যাটাস একেকজনের, কিন্তু এই বিষয়গুলো বুঝার জন্য তো এই Complex System টির Dynamics ভালভাবে পর্যবেক্ষন করলে কিছু ধারণা পাওয়া যায় যে, কি হচ্ছে, কোথা থেকে কোথায় হচ্ছে, কে কাকে প্রভাবিত করছে, কিসের কারনে কি হচ্ছে এবং কিভাবে এই সিস্টেমটির Equilibrium State টির shift হচ্ছে। আমাদের সমাজ সিস্টেম টি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে, অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে, সম্পর্কগুলো কি নড়বড়ে হয়ে গেছে! সব মিলিয়ে, পুরো ফেইসবুক টা-ই কেমন যেন Toxic হয়ে গিয়েছে মনেহয়।
  • Peer Pressure: এটি আমি সবসময় খুব তীব্রভাবে reject করে আসছি, ফেইসবুক ছাড়ার ফলে আমি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কিছুটা এর থেকে মুক্ত থাকতে পারি/পারছি, যেটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভাল দিক।
  • আর যেটি ধীরে ধীরে উপলব্ধি করেছিলাম তা হলো, যত বেশী মানুষ আমাকে চিনে, আমার social anxiety তত বাড়ে। সৌ Backstage-ই হচ্ছে আমার সবচেয়ে Comfort Zone. যদিও দায়িত্বের কারনে সামনে যেতে বাধ্য হই, কিছু করার থাকে না। Introverted, আড়ালে থাকার মানুষ ভার্সিটিতে এসে অনেক বেশী এক্সপোজড হয়ে গেছি, এখন আর ভাল লাগে না, গুটিয়ে নিলেই বাচি। একজন বিখ্যাত মানুষের একটি কথা মনে পড়ছে……
    A quiet secluded life in the country, with the possibility of being useful to people to whom it is easy to do good, and who are not accustomed to have it done to them; then work which one hopes may be of some use; then rest, nature, books , music, love for one's neighbor - such is my idea of happiness. And then, on top of all that, you for a mate, and children, perhaps - what more can the heart of a man desire...... আহা...!

screenshot-www.facebook.com 2016-06-29 15-40-03

তাছাড়া, আমার প্রায়ই মনেহয় আমার জন্ম যদি ৬০/৭০ এর দশকে হত, ভাল হত…… মানে সামাজিক জীবনটির সৌন্দর্য আরো ভাল ভাবে উপভোগ করতে পারতাম, এতদিনে বুড়ো হয়ে যেতাম। এখন তো কেমন যেন লাগে, যেই জেনারেশন আসছে একের পর এক, এদের সাথে connect করা-ই তো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কেমন যেন এরা… 😛

যাইহোক, জানি না আসলে, বিভিন্ন সময়ে কেউ খুঁজেছে কিনা ফেইসবুকে আমাকে, অনেকের কাছেই আমার ফোন নাম্বার নেই। আর কাউকে জানিয়েও করিনি, অনেকদিনের ইচ্ছে থেকে হুট করে একদিন বাস্তবায়ন করে ফেলা।

And it has been one of the most liberating things I have done in my short adult life. I know it sounds daunting and a bit like social suicide, but I don’t regret it.

My daily life without Facebook is “Much better”. And I felt it before deleting my account, so took the bold step 😀 [Reason

 

 

[সবকিছুরই ভাল-মন্দ উভয় দিক থাকে। কেবল ভালোর চেয়ে খারাপের পাল্লাটি কারো জন্য ভারি হয়ে গেলে সেটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।]

8 comments

  1. পিয়াস Reply

    “তাছাড়া, আমার প্রায়ই মনেহয় আমার জন্ম যদি ৬০/৭০ এর দশকে হত, ভাল হত…… মানে সামাজিক জীবনটির সৌন্দর্য আরো ভাল ভাবে উপভোগ করতে পারতাম, এতদিনে বুড় হয়ে যেতাম।”- এই ইচ্ছা টা আমারো আছে :p

  2. ashraful alam masum Reply

    ভালো সিদ্ধান্ত। আল্লাহ তোমার সহায় হউন। আমীন

  3. ইরফান Reply

    দ্যাখ দোস্ত, উন্মুক্ত সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এর যুগে উপরের যতো যা বললি সবই স্বাভাবিক বাস্তবতা। পেছনে ফিরে যাওয়া কখনোই কোন সমস্যার সঠিক সমাধান দেয় নাই। (আমি যতটুকু ইতিহাস পড়ছি তার ভিত্তিতে বললাম)।
    তোর মতো মানুষগুলা পালায়ে গেলে ইকুইলিব্রিয়াম আরো নেগেটিভ দিকেই যাবে। আমরা ফেসবুক ছাড়া শৈশব পার করেছি। যারা এখন স্কুল-কলেজে পড়ছে তাদের জন্য এই হাইপটা মূর্তিমান বাস্তবতা। তুই পালায়ে গেলে তোর জুনিয়র অনেকেই তোর চিন্তাগুলা মিস করবে।
    নিজের শান্তির জন্য এসকেপিজম খুব একটা সুবিধার পথ না। আমার মনে হয় তোর বিষয়টা আবার ভাবা উচিত।

    • nazmussadat Post authorReply

      হা হা…… জানি না, দেখা যাক। আর যেখানেই সবাই নিজেকে জ্ঞানি মনে করে, সেখানে আমার দরকার নেই আসলে। আমি হচ্ছি এক প্রকারের ব্যাকআপ, আমি কেবল সেখানেই আছি যেখানে আমার থাকা অপরিহার্য আমাকে ছাড়া চলবে না। ফেইসবুকে জ্ঞান বিতরনের অনেক মানুষ আছে আমার মনেহয়। আমি আমার নিজেকে নিয়ে ভালো আছি, যখন কারো উপকারে আসার সুযোগ পাই, তখন সেটি নিজ উদ্যোগেই করে আসি বা মুখিয়ে থাকি করার জন্য। দেখা যাক…
      Loved it that you’ve come to share your thoughts and suggestions. 😀

  4. shajib ghosh Reply

    এটা একটা ভালো সিদ্ধান্ত। ঠিকমত ব্যবহার না করতে পারলে আগুন আলো না ছড়িয়ে ধ্বংস ঘটায়। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে মনে হয় ব্যাধিই সংক্রমিত হয়েছে, স্বাস্থ্য নয়। কিন্তু, এটাও ঠিক যে, মাথা কেটে ফেললেই মাথাব্যথা যায় না। আমি এই বিষয়ে তোর সাথে একমত যে, ফেসবুক কেন যেন আমাদেরকে সামাজিক করতে গিয়ে আরও অসামাজিক করে ফেলেছে। এখন আমরা রেস্টুরেন্টে অথবা কোথাও আড্ডা দিতে গেলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেয়ার বদলে ফেসবুকে স্ক্রলিং বেশিক্ষণ করি, একটা ভার্চুয়াল শো অফ এর জায়গা হয়ে যাচ্ছে ফেসবুক, উপকারি দিক যে নেই তা নয়, স্টাডি ম্যাটেরিয়ালস শেয়ার, আলোচনা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দ্রুত কম খরচে তাৎক্ষণিক রেসপন্সের মাধ্যমে আদানপ্রদান করা – এগুলো সহজ করেছে ফেসবুক – অবশ্যই যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তির ভালো খারাপ দুই দিকই থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কীভাবে ভালো দিকটার দিকে বেশি আলোকপাত করা যায় এটাই চ্যালেঞ্জ, সত্যিকার অর্থেই আমরা ও পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কঠিন একটা চ্যালেঞ্জ।
    লেখাটা পড়ে ভালো লাগলো।

    • nazmussadat Post authorReply

      Hi Shajib! 🙂
      হ্যা, যেটি আমি সব শেষে ব্র্যাকেট-এ লিখেছি যে, ভাল-মন্দ সবকিছুরই আছে। এখন দেখতে হবে কারো জন্য একটি জিনিস ভালোর চেয়ে মন্দ বেশি আনছে কিনা, তাহলেই উদ্বেগের বিষয়। আর আমি বলছিনা যে, আমি ফেইসবুক একাউন্ট ডিলিট করেছি তার মানে সবারই করা উচিত। আমি Standard না, সবাই নিজের জন্য নিজেই Standard এবং সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আমি কেবল আমার ব্যক্তিগত অভিমত শেয়ার করেছি, আমার পরিচিতজনদের সাথে আমার কাজটি করার কারন শেয়ার করেছি, যেহেতু অনেকে জিজ্ঞেস করে, “আমি কোথায়? ফেইসবুকে নেই কেন? একাউন্ট ডিলিট করেছি কেন?” ইত্যাদি।
      আর আমি জানি না অন্যদের জন্য এটি কতটা ক্ষতকর, কিন্তু আমার জন্য অনেক বেশি ক্ষতিকর মনেহয়েছে, বিশেষ করে যাদের Social Anxiety আছে। আর মাথা কাটার ইস্যুটি আসলে সব স্থানে একইভাবে প্রয়োগযোগ্য না, এটা স্থান-কাল-পাত্র ভেদে প্রয়োজনের উপর নির্ভর করে। এবং যেহেতু আমার একাউন্ট ডিলিট করার কারনে মানুষের কোন ক্ষতি হয়না, তাই আমার মনেহয়েছে যে, করে ফেলা যায়, আমারও তেমন ক্ষতি নেই। অনেকগুলো দরজা খুলে রেখে অস্বস্তিতে থাকার চেয়ে কিছু দরজা বন্ধ করে ভাল থাকাটি বেটার মনে হয় 😀 আর এখন তো এখানে আছি-ই… এখানে মাঝে মাঝে লেখালেখি করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *