অত্যাধিক সফল ব্যক্তিদের ৫টি দৈনন্দিন অভ্যাস -(সর্বাধিক পঠিত)

আপনি আমি, আমরা সবাই জানি যে, প্রতিটি দিন(সম্পূর্ণ) ২৪টি ঘন্টা নিয়ে হয় এবং আমরা সবাই ২৪টি ঘন্টা-ই পাই নিজেদের জন্য। এমন কিন্তু না, বিল গেটস সবচেয়ে বেশি ধনী বলে তার জন্য দিন ৩৪ ঘন্টায় হয়। ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবার জন্য ২৪ঘন্টায় ১দিন, ৬০ মিনিটে ১ঘন্টা এবং ৬০ সেকেন্ডে ১মিনিট। কিন্তু এই ২৪ ঘন্টা সময় পেয়ে কেউ মঙ্গলে মানুষ পাঠানোর জন্য নিত্যদিন কাজ করে যাচ্ছে, কেউ দিনে-দিনে বিলিয়ন ডলার ইনকাম করে ফেলছে, আবার কেউ ঐ একই দিনে ২০০/৫০০/১০০০/২০০০ উপার্জন করছে।

কিন্তু কি সেই জিনিস যা, এত ব্যবধান তৈরি করছে আমাদের দিনান্তের প্রাপ্তি তে? বলব একদিন সময় করে বিস্তারিত কিন্তু আজ সেসবের কয়েকটি একটু সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাই। অত্যাধিক সফল মানুষদেরকে যেসকল অভ্যাস অত্যাধিক সফল হতে অভাবনীয় ভুমিকা রেখেছে, তার ৫টি নিচে উল্লেখ করছি।

প্রথমত, তারা প্রতিদিনের কাজের পরিকল্পনা পূর্ববর্তী রাতে করে রাখে।

কারন তারা জানে, পরিকল্পনা ছাড়া তাদের দিনটি যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারবে না, অর্থাৎ একটি দিন থেকে সর্বোচ্চ ফলাফল বের করে আনা অত্যন্ত কঠিন।

দ্বিতীয়ত, তারা নিজেকে সমৃদ্ধ করার জন্য প্রতিদিন ব্যাপকভাবে বই পড়ে।

বিশ্বের কয়েকবারের ২য় সর্বোচ্চ ধনী ওয়ারেন বাফেট প্রতিদিন ৫০০ পাতা পড়েন। জানা যায়, বিশ্বের প্রায় সকল বিলিয়নিয়ারদের প্রচণ্ড বই পড়ার নেশা। তারা সেসব বই থেকে অনুপ্রেরনা নিয়ে থাকেন এবং নিজেকে বিচিত্র জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন, যা তাদের কে উদ্ভাবনী চিন্তা করতে সহায়তা করতে এবং বড়-বড় স্বপ্ন দেখতে সহায়তা করে।

 

তৃতীয়ত, তারা তাদের সুস্বাস্থকে অত্যাধিক প্রাধান্য দিয়ে থাকে।

একটি গল্প(সত্য বলে শুনেছি) শোনা যায় যে, মুসা (আ) এর সাথে যখন আল্লাহর কথা হয়, তখন আল্লাহ মুসা (আ) বলেছিল, “হে মুসা, তুমি কি চাও আমার কাছে?” মুসা (আ) বলেছিল, “আল্লাহ, আমি যদি খোদা হতাম, আর তুমি যদি মুসা হতে, তুমি আমার কাছে কি চাইতে?”। তখন আল্লাহ বলেছিল, “সুস্বাস্থ”। সফলতার জন্য সুস্বাস্থ অত্যাবশ্বক। সুস্থ না থাকলে কোন কাজেই শান্তি পাওয়া যায় না, কাজের উতপাদনশীলতা বা কাজের তৎপরতা থাকে না।

 

চতুর্থত, তারা অন্যে কি করছে সেসবের দ্বারা নিজের পথ থেকে বিচ্যুত হয় না এবং মনোযোগ হারায় না।

সফলতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নিজের লক্ষ্য উদ্দেশ্যের প্রতি একাগ্রতার সাথে অনুগত থাকা। নিজের কাজ সাময়িকভাবে খুব উতপাদনশীল মনে না হলেও, আরো বুদ্ধিদীপ্তভাবে কাজে লেগে থাকা, অন্যের ভালো-মন্দ দ্বারা প্রভাবিত না হওয়া।

 

পঞ্চমত, তারা প্রতিটি দিন এমনভাবে অতিবাহিত করে যেন এটাই তাদের শেষ দিন। 

অর্থাৎ কেউ যখন মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে, আজকের দিনটিই আমার জীবনের শেষ দিন হয়ে যেতে পারে, তখন সে তার সর্বোচ্চ মেধা, শ্রম ও আন্তরিকতা দিয়ে চেষ্টা করে ঐ দিন থেকে কাজের সর্বশ্রেষ্ঠ ফলাফল বের করে আনতে। একারনেই তাদের ২৪ঘন্টায় তারা যা সম্পন্ন করতে পারে, অন্য সাধারন মানুষ তার হাজার ভাগের একভাগও অনেক সময় পারে না।

 

তাই বলতে হয় যে, তেমন সফলতার জন্য আমাদের মৌলিক চিন্তা-চেতনা, কাজের ধরন ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। রাতারাতি সফল হওয়ার চিন্তা না করে, সফল হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ামকের যোগান দিতে হবে, অভ্যাস গড়তে। এমন সব অভ্যাসের মানুষ হতে হবে, যেগুলোর প্রভাবে আমরা স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত সফল ব্যক্তিদের তালিকায় নিজেদের নিয়ে যেতে পারব।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *